আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড সোমবার সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি দেশটির বিরুদ্ধে কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়, তবে তারা ‘আরও অনেক বেশি বিধ্বংসী’ প্রতিশোধ নেবে। এই ঘোষণা দিয়েছে খাতাম আল-আমবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির টেলিগ্রাম বার্তায় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আবারও যদি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়, আমাদের পরবর্তী আক্রমণ ও প্রতিশোধমূলক অভিযান হবে আরও বেশি বিধ্বংসী এবং ব্যাপক।” এই হুঁশিয়ারি ইরানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতার সংকেত হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টি নিয়ে তেহরানকে একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের কৌশলগত প্রণালিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মার্কিন হুমকির পর ইরানও পাল্টা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে বিবেচিত, তাই এখানে সংঘাতের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়েছেন, তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে, তবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে কঠোর ও ব্যাপক প্রতিশোধ নেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল হলেও, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা তাদের অঙ্গীকারের অংশ।
উত্তেজনা পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশগুলো তাদের সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়ানো না গেলে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক জাহির করা শান্তি আহ্বান ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্লেষকরা আরও মন্তব্য করেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত এড়াতে পারস্পরিক কূটনৈতিক সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালির অব্যাহত কার্যক্রমের প্রতি আন্তর্জাতিক নজরদারি অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ছে, যা নৌপরিবহন, তেল বাজার এবং অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।