রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার এলাকার একটি জমি দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক ও অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় জমি দখল ও ‘মব’ করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চৌদ্দপায় বিহাস মোড় এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের কর্মচারী খলিলুর রহমানের কন্যা খাদিজা ইয়াসমিন খুশি অভিযোগ করেন, ২৬ মার্চ কাটাখালি পৌরসভার এলাকার জমিতে জামায়াত কর্মী নজির আলী, রজব আলী ও মিলন আলী তাদের বাড়ি ও দোকান দখলের চেষ্টা চালান। তিনি জানান, তাদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ফটকের মাঝখানে অপর পক্ষ নিজেদের সাইনবোর্ড স্থাপন করে।
খাদিজা ইয়াসমিন খুশি বলেন, ওইদিন তাদের আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ সন্ধ্যায় তাদের উদ্ধার করে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এবং লিখিত অভিযোগ সত্ত্বেও তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি।
মতিহার থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ ঘটনার বিষয়ে জানান, “সেখানে হামলা বা ‘মব’ সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে কিনা তা আমি নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে ওই এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে এবং আদালতে মামলা চলমান। সন্ধ্যার পর আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমি গিয়ে উজিরের লোকজনকে সরিয়ে দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরের দিন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ৫০ জনের বিরুদ্ধে ‘মব’ করে জমি দখলের অভিযোগ করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা ইয়াসমিন খুশি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে তাদের বাড়ি ও দোকানঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি এবং প্রাণনাশের শামিল হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এই হুমকি ও মানসিক চাপের কারণে তার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত কর্মী উজির আলী জানান, “আমরা কারো জমি দখল করতে যাইনি। আমাদের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি। ওইদিন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না; আমার ভাই ও আত্মীয়-স্বজন গিয়েছিল।” তিনি ‘মব’ সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সেখানে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা অবরুদ্ধ রাখার ঘটনা ঘটেনি।”
জমি সংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উজির আলী বলেন, “খলিলুর রহমান ১৯৮৪ সালে ৩.৫ শতক জমি ক্রয় করেন। কিন্তু বর্তমানে ছয় শতক জমি দখল করা হয়েছে। এই বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা প্রস্তুত।”
খাদিজা ইয়াসমিন খুশি এই দাবির প্রেক্ষাপটে জানান, তারা মোট ছয় শতক জমি ক্রয় করেছেন, যার মধ্যে মাত্র ৩.৫ শতকই রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। বাকিটা মহাসড়কের সংযুক্তির কারণে নথিভুক্ত হয়নি। তবে দলিলে উল্লেখ আছে, মহাসড়কের সংলগ্ন অংশ ‘বে-দাবি’ হিসেবে স্বীকৃত, যার মানে, দীর্ঘদিনের ভোগদখলকারীরা ওই জমিটিও ব্যবহার করতে পারবেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার জন্য আদালতের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।