আইন আদালত ডেস্ক
ঢাকা: যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর আদালত মঙ্গলবার তরুণ গায়ক আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
মামলার বাদী, ইডেন কলেজের ছাত্রী জান্নাতুল তাজরিয়া অরা, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তার সঙ্গে আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুর পরিচয় গিটার শেখার মাধ্যমে হয়েছিল। সেই পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অরা দাবি করেন, এক পর্যায়ে তার অনিচ্ছার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আচরণ করেন, যা তিনি ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সেই সূত্রে তাদের মধ্যে সম্পর্ক বজায় থাকে।
অরা জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং এক পর্যায়ে জাহিদ অন্তু সম্পর্ক অস্বীকার করতে শুরু করেন। পরে তারা পারস্পরিকভাবে যোগাযোগ বন্ধ করেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রোডাক্ট শুটের কথা বলে অভিযুক্ত আবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। কাজের কথা বলে তাকে বাসায় ডাকা হয়, যেখানে স্টুডিও ও অফিস একত্রে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অরা অভিযোগ করেন, বাসায় গেলে কাজের পরিকল্পনা নিয়ে আলাপের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত শারীরিকভাবে তাকে লাঞ্ছিত করেন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটকে রাখা হয় এবং মারধর করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে বারবার গলা চেপে ধরা হয়, থাপ্পড় মারা হয় এবং চুল ধরে টানা হয়। দরজা বন্ধ থাকায় বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তবে একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন।
অরা আরও জানান, অতীতেও বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে তাকে বাসায় ডাকার চেষ্টা করা হয়েছে। কখনো প্রোডাক্ট শুট, কখনো ব্যক্তিগত জিনিস ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাকে যোগাযোগ করা হতো। সাম্প্রতিক ঘটনায় তিনি পেশাগত কাজের উদ্দেশ্যে বাসায় গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে পূর্বের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় এবং নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি আহত হন।
ঘটনার পর মামলাটি দায়ের করা হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাটি যৌন নিপীড়ন ও বাধা প্রদানের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে, এবং আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।