জাতীয় ডেস্ক
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশনেত্রীর স্নেহ ও দিকনির্দেশনা তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং দেশনেত্রীর পরম মমতা ও আস্থার ছায়ায় পেশাগতভাবে অনেক সুযোগ ও দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক জীবনে একজন সাধারণ মাঠকর্মী হিসেবে শুরু করে দেশনেত্রীর আর্শীবাদে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তাঁর নেতৃত্ব আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছে।’
তিনি আরও জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শেষ জীবনের মুহূর্তগুলোতে তিনি হাসপাতালে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন, তখন তার সংস্পর্শে থাকা একটি দুঃখজনক হলেও গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ছিল। তার প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা রেখেই আমি দলের দায়িত্ব পালন করেছি।’
মির্জা ফখরুল বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রভাব ও জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বেগম জিয়ার সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব নয়। তার জানাজায় লক্ষ কোটি মানুষ উপস্থিত হন, যা তার ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ।’
বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলের প্রায় ১৮ বছরের সংগ্রামে অসংখ্য নেতা ও কর্মী প্রাণ দিয়েছেন। মিথ্যা মামলায় বিপুলসংখ্যক নেতা-বন্দি হয়েছেন, কেউ কেউ নিখোঁজ হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে দুই বছর কারাগারে রাখা হয় এবং পরে অসুস্থ অবস্থায় ‘হাউজ অ্যারেস্ট’ দেওয়া হয়। এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে।’
তিনি দলীয় দায়িত্ব ও জনগণের কল্যাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আমরা সবসময় জনগণের দাবি ও গণতন্ত্রকে কেন্দ্র করে কাজ করেছি। বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও নেতৃত্বের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা কাজ অব্যাহত রাখব।’
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যনির্ভর নেতা। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে দেশ পরিচালনা করছেন। তার নেতৃত্বে দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কাজের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগের বিষয়ে তিনি জানান, ‘আমরা প্রথম থেকেই মন্ত্রণালয়কে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে, দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ওয়াসার এমডিসহ কিছু কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
মির্জা ফখরুলের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, বিএনপি অতীতের সংগ্রাম ও নেতাদের ত্যাগকে স্মরণ রেখে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বর্তমান কার্যক্রম ও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে তিনি জনগণের কল্যাণমুখী হিসেবে দেখছেন।