রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীতে স্কুল চলাকালীন সৃষ্ট যানজট নিরসনে কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বের করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কুল সময়কে কেন্দ্র করে যে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, তা নিরসনে সম্ভাব্য সমাধান ও বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি নিয়ে একটি সুসংগঠিত প্রস্তাবনা তৈরি করে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে রাজধানীর স্কুলসংলগ্ন এলাকায় যানজটের বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রবেশমুখে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। একটি স্কুলে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রায় একশটি গাড়ি একসঙ্গে ভিড় করে, যা আশপাশের সড়কে চলাচল ব্যাহত করে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়। ফলে শিক্ষার্থীদের সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভরতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধার অভাব এবং স্কুল সময়ের সমন্বয়হীনতা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে সকালে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস শুরু হওয়ার সময় প্রায় একই হওয়ায় নির্দিষ্ট কিছু সড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এতে গণপরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচলও বিঘ্নিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি। স্কুলগুলোর সময়সূচি ধাপে ধাপে নির্ধারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট স্কুলবাস চালু বা ব্যবহার বৃদ্ধি, অভিভাবকদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে পর্যাপ্ত ড্রপ-অফ ও পিক-আপ জোন তৈরি করাও যানজট কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বৈঠকে এসব সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি বিশ্লেষণ করে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সুপারিশ প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি সমাধান কাঠামো প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অতিরিক্ত প্রেসসচিব আরও জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে নৌবাহিনী প্রধানও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
রাজধানীর যানজট সমস্যা দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি একসঙ্গে শুরু হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়গুলোতে সড়কে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে স্কুলকেন্দ্রিক যানজট একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে।
সরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার ফলে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান খোঁজার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হতে পারে।