জাতীয় ডেস্ক
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতি, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের ডিজিটাল রূপান্তর কর্মসূচির আওতায় ই-গভর্নেন্স, অনলাইন সেবা প্রদান, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর প্রশাসনিক কাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, গ্রামীণ ও শহুরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল সেবার ব্যবধান কমাতে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ বিস্তার, মোবাইল নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং সরকারি সেবাকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অর্জিত সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনসেবার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এ অভিজ্ঞতা থেকে ভুটানও উপকৃত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে উভয়পক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া দক্ষ জনবল প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়।
দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সহযোগিতা আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার হলে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার এবং উদ্ভাবনভিত্তিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, ভুটান দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর জিগড্রেল ওয়াই শেরিং এবং বাণিজ্যবিষয়ক কাউন্সিলর দাবা শেরিংসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।