বাংলাদেশ ডেস্ক
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বীরত্বগাথা ও নেতৃত্বের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এক অবিনাশী সত্য। এই সময়ের ইতিহাস যাতে বিকৃত বা ভুলভাবে পরিবেশিত না হয়, তার জন্য সঠিক তথ্য ও প্রচার অপরিহার্য।
সভা ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পরিচালিত হয়েছিল এবং এটি আয়োজন করেছিল ড্যাব। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ২৫ মার্চ কালরাত্রি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস স্বয়ম্ভু এবং নিজের বিবর্তনের ধারায় গড়ে ওঠে। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মনগড়াভাবে ইতিহাস রচনা করতে পারে না। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ইতিহাস বিকৃত করার প্রচেষ্টা সফল হওয়া সম্ভব নয়।
তথ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে দেশের জনগণ স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছিল। তবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালায়, যা এক চরম অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করে। সেই কঠিন মুহূর্তে ৩২ বছর বয়সী মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করে সম্মুখ সমরে নামেন।
তিনি বলেন, ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে যুদ্ধের পথ দেখিয়েছে। ১০ এপ্রিল প্রবাসী সরকারের নেতা তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণেও এই বিদ্রোহ ও ঘোষণার স্বীকৃতি স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।
মন্ত্রী বর্তমান সময়কে তথ্য প্রযুক্তি ও সিটিজেন জার্নালিজমের যুগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে ইতিহাস বিকৃত করা বা সত্য লুকিয়ে রাখার সুযোগ নেই। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাকে উল্লেখ করে বলেন, এটি বেগম খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের বর্তমান নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ জিয়াই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন। তিনি পরাজিত শক্তিকেও পার্লামেন্টে স্থান দিয়ে উদার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন। সেই পথে অনুসরণ করে বিএনপি দেশ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
আলোচনা সভায় ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং ড্যাব-এর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।