জাতীয় ডেস্ক
সম্প্রতি দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ শিশুর মৃত্যুর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই মন্ত্রীকে সারাদেশে ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ তথ্য জানান।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “সংসদীয় কমিটির বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর বিষয়টি রিপোর্ট করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি সংশ্লিষ্ট দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য।”
জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক)-এ হাম এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত তিন মাসে ৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা হামের দ্রুত সম্প্রসারণ ও শিশুদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে সতর্কতা জারি করেছেন।
চিফ হুইপ আরও জানান, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বৈঠকে আরও জানানো হয়, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সংসদে তেলের পর্যাপ্ত মজুত ও বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধের বিষয়েও বক্তব্য দেবেন। চিফ হুইপ বলেন, “তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও তেল সংগ্রহে যে সমস্যাগুলি হচ্ছে, তা নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হামের প্রাদুর্ভাব কমাতে শিশুর টিকা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে হবে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আশা করা হচ্ছে, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং শিশুদের জীবনরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হামের লক্ষণ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সেবা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা।