জাতীয় ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যেখানে সম্প্রতি অসংখ্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা থেকে মোট ৮৫৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। গত সোমবার (৩০ মার্চ) একদিনে ১৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কুয়েতের দুইটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত) চারটি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) দুইটি, কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের দুইটি এবং জাজিরা এয়ারওয়েজের চারটি ফ্লাইট রয়েছে।
বেবিচকের তথ্যমতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশপথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা থেকে প্রতিদিনের ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে যথাক্রমে ২৩ ও ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হয়। পরবর্তী দিনে ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ ও ৮ মার্চ ২৮টি করে ফ্লাইট বাতিল হয়। ৯ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত দৈনিক বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা ৩৩, ৩২, ২৭ ও ২৮টি ছিল। ১৩ মার্চ থেকে ১৭ মার্চের মধ্যে প্রতিদিনের ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ২৫, ২৪, ২৩, ২৮ ও ২৬টি। ১৮ মার্চ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা যথাক্রমে ২৬, ২০, ২০, ২০ ও ২০টি। ২৩ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন ২০ থেকে ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
বেবিচক আরও জানায়, সাম্প্রতিক ফ্লাইট বাতিলের ফলে যাত্রী ও বাণিজ্যিক পরিবহণে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো তাদের নিরাপত্তা বিধি ও আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুসারে বিমান পরিচালনা স্থগিত করেছে। এ ছাড়া যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে এবং অনেক যাত্রী অপেক্ষার মধ্যে রয়েছে।
উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রী ও কার্গো চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এই সাময়িক বিমান চলাচল বন্ধ পরিস্থিতি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ, পণ্য আমদানি-রফতানি এবং পর্যটন খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বেবিচক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং যাত্রীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের তথ্য সরবরাহ করছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ ও সময়মতো বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।