জাতীয় ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে আজ রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে সরকারি দলের সংসদীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক রাতেই অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা, প্রাসঙ্গিকতা এবং বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক আজ রাতে অনুষ্ঠিত হবে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।” তবে কোন কোন অধ্যাদেশ বহাল থাকবে, সংশোধন হবে বা বাতিল করা হবে—সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।
সংসদীয় সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও আইনগত প্রয়োজন মেটাতে একাধিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু ছিল জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য, আবার কিছু ছিল দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে প্রণীত। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, যার প্রেক্ষিতে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
এ বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে এখনো ২৪টি অধ্যাদেশ নিয়ে কমিটির সদস্যদের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য হয়নি। তিনি বলেন, “যেসব অধ্যাদেশের বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আশা করছি, আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”
কমিটির সংশ্লিষ্টরা জানান, যেসব অধ্যাদেশ জনস্বার্থ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেগুলো বহাল রাখার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। অন্যদিকে, যেসব অধ্যাদেশ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক বা বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, সেগুলো বাতিল বা সংশোধনের প্রস্তাব আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সাধারণত সংসদের বাইরে জরুরি ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করে অনুমোদন নেওয়ার বিধান রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়। ফলে বর্তমান সরকারের এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়াকে নিয়মতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, কিছু অধ্যাদেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক কাঠামোর বিষয় জড়িত রয়েছে। সেসব অধ্যাদেশ বহাল থাকলে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আজ রাতের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা পরবর্তী সময়ে সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে।