বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে ফ্রান্সের ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাটাশে ক্রিস্তেল ফন্টেইন রোববার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে উভয় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ফ্রান্সের ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাটাশে সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ক্রিস্তেল ফন্টেইন বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ (ক্রাউড কন্ট্রোল), অভিবাসী সহায়তা কার্যক্রম, অপরাধ তদন্ত এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ফ্রান্সের পক্ষ থেকে প্রদর্শিত আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট যানজট সমস্যা নিরসনে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান জরুরি। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
এছাড়া পার্বত্য অঞ্চল এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। আইজিপি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং মানবপাচার প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও গুরুত্ব পায়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের তৎপরতা মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মত প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় উভয় দেশের প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা মনে করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হলে উভয় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।