আইন আদালত ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ওয়ান ইলেভেনের সময়কার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেও কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
রোববার (২৯ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ১/১১ ও পরবর্তী সময়ে কিছু ব্যক্তি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন। তিনি আরও জানান, ওই সময়ে দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন বিনষ্ট করার জন্য এবং বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত দু’জন কর্মকর্তা—মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও মামুন খালেদ—ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অন্য মামলায় পুলিশ হেফাজতে বা রিমান্ডে আছেন।
তিনি বলেন, “তাদের অতীতের বহু কর্মকাণ্ড আমাদের সংজ্ঞায়িত মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে। সকল অভিযোগ এখন প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা মনে করি, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হওয়া প্রয়োজন। এই দুষ্কৃতকারীদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সরকারি দায়িত্বে থেকে এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
চিফ প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন, ওই কর্মকর্তাদের কোনো উজ্জ্বল কর্মজীবন নেই; তাদের কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা সেফ হাউসসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষকে নির্যাতন, খুন ও গুম করেছে। “১/১১-এর সময় এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখন প্রকাশ করা সম্ভব নয়,” তিনি বলেন।
আবু সাঈদের মামলার প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “৯ তারিখে মামলার জাজমেন্ট হওয়ার কথা রয়েছে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তা সম্পন্ন হবে। অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ বাদ পড়েনি। তবে একজন আসামি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেলেও তার সরাসরি অংশগ্রহণ ওই দিনের ঘটনার সঙ্গে প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তী দুই দিনের ঘটনায় তার সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে, এবং সেই বিষয়ে আলাদা মামলা ও তদন্ত চলছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আবেদন জানাব।”
তিনি আরও বলেন, “১/১১ থেকে শুরু করে পরবর্তী সরকারের সময়ে যারা রিং-লিডার ছিলেন, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে তাদের বিচার করবে। কোনো দায়মুক্তি বা ইনডেমনিটি আমাদের কার্যক্রমে বাধা তৈরি করতে পারবে না।”
চিফ প্রসিকিউটরের এই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্তৃত্ব ও স্বাধীন বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের হুঁশিয়ারি ভবিষ্যতে সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই পর্যায়ে, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ ও তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। মামলার যথাযথ বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ন বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন।