বাংলাদেশ ডেস্ক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান। তিনি দাবি করেন, এটি দালিলিকভাবে প্রমাণিত এবং আন্তর্জাতিক দলিলেও উল্লেখ আছে।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সভায় তিনি বলেন, “২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাজারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা চালাতে শুরু করলে চট্টগ্রাম থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতার ডাক দেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনা তার ঘোষণার মাধ্যমেই হয়েছে, যা দালিলিকভাবে প্রমাণিত।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস অনুসারে এটি অনস্বীকার্য যে, স্বাধীনতার মূল ঘোষণা তাঁর মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছিল।”
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সমালোচনা চালিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “বিগত সরকার দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতার মিথ্যা দলিল ও বক্তব্য তৈরি করেছে। তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করেছে এবং সব কৃতিত্ব এককভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সবার অবদানের স্বীকৃতি দিতে চাই; কারও সম্মান কেড়ে নিতে চাই না। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তনে বিএনপির অবদান অনস্বীকার্য।”
মন্ত্রী বিশেষভাবে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার দিকে গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এক উজ্জ্বল অধ্যায়। বিএনপি সব সময় ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্ব প্রদান করেছে।”
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং জাতীয় ইতিহাসে তার অবদান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি প্রমাণিত দলিলের আলোকে বর্তমান প্রজন্মকে সতর্ক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং তা জাতির সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও জাতীয় চেতনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। স্বাধীনতার সূচনালগ্নের এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য পর্যায়ের নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত।
বিস্তারিতভাবে, মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ছিল অস্থির এবং পাকিস্তানি সেনারা নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার ডাক ও বিদ্রোহের ঘোষণা এক গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, জাতীয় ইতিহাসের নথিপত্র ও আন্তর্জাতিক দলিলের আলোকে স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনার ধারা যথাযথভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।