1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সেবার মান না বাড়ালে বাস কোম্পানির রুট বাতিল: সড়কমন্ত্রী যেভাবে দেখবেন বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুরের ম্যাচ সাইবার সুরক্ষা আইনকে কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক হতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে নামার আগেই সেমিফাইনালে তুলে দেওয়া হলো ভারতকে জাদুকরী ফ্রি কিক মেসির, গোলকিপারের শেষ সময়ের ভুলে মায়ামির হার বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচটি কারণ কী কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল থেকে ফ্লাইট চলাচল শুরু ২২ অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে অবৈধ লেনদেন, সর্তক করল বাংলাদেশ ব্যাংক শিক্ষক দিবসে ১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেবেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকার চাঁদ উদ্যানে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮

পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে রানা প্লাজা বেঁচে যাওয়া নাসিমার মৃত্যু

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৭৩ বার দেখা হয়েছে

সারাদেশ ডেস্ক

১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমা বেগম এবার পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে নাসিমা বেগমসহ চারজন ডুবে যান। নিহতদের মধ্যে নাসিমা বেগমের ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান রয়েছেন। কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নাসিমা বেগম ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর তিনি বেঁচে ফিরেছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রানা প্লাজা ধ্বংসের পর তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকলেও স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে পুনরায় ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন। তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি সাভারের ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান চাকরির সন্ধানে, কিন্তু এক মাসের চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি। পরে ঈদ উপলক্ষে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।

দুর্ঘটনার দিন, ঈদ শেষে ২৫ মার্চ বিকেলে নাসিমা বেগম, ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে তারা সবাই ডুবে যান।

নিহতদের লাশ উদ্ধার করে পারিবারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও, ফের বাড়ি যাওয়ার পথে কুষ্টিয়ার একটি স্থানে লাশবাহী গাড়িটি পুনরায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে নিহত নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু জানিয়েছেন। পরে শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, নিহত নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

নাসিমা বেগমের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামে। তিনি মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাসিমা জীবিকার তাগিদে পুনরায় ঢাকায় যান, যা তার জন্য শেষপর্যন্ত প্রাণহানিতে পরিণত হয়।

এই দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরার পরেও জীবন এবং জীবিকার সংগ্রামে নাসিমার এই আকস্মিক মৃত্যু সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026