1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজে শিশু আইসিইউ সংকট ও মৃত্যুর ঘটনা শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্বের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে জোরদার মনোযোগের ঘোষণা রাজধানীতে স্কুল সময়ের যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে নির্দেশ বিআইডব্লিউটিসিকে জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা নুরজাহান খানম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশ-সৌদি বৈঠকে হজ ও উমরাহ সেবায় সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভুটান তথ্যপ্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক মেসি শুরুতেই খেলতে পারেন জাম্বিয়ার বিপক্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বাজেট বৃদ্ধি, বকেয়া পরিশোধসহ অবকাঠামো ও সরঞ্জাম উন্নয়নে বরাদ্দ

পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে রানা প্লাজা বেঁচে যাওয়া নাসিমার মৃত্যু

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২৭ বার দেখা হয়েছে

সারাদেশ ডেস্ক

১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমা বেগম এবার পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে নাসিমা বেগমসহ চারজন ডুবে যান। নিহতদের মধ্যে নাসিমা বেগমের ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান রয়েছেন। কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নাসিমা বেগম ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর তিনি বেঁচে ফিরেছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রানা প্লাজা ধ্বংসের পর তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকলেও স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে পুনরায় ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন। তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি সাভারের ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান চাকরির সন্ধানে, কিন্তু এক মাসের চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি। পরে ঈদ উপলক্ষে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।

দুর্ঘটনার দিন, ঈদ শেষে ২৫ মার্চ বিকেলে নাসিমা বেগম, ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে তারা সবাই ডুবে যান।

নিহতদের লাশ উদ্ধার করে পারিবারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও, ফের বাড়ি যাওয়ার পথে কুষ্টিয়ার একটি স্থানে লাশবাহী গাড়িটি পুনরায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে নিহত নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু জানিয়েছেন। পরে শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, নিহত নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

নাসিমা বেগমের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামে। তিনি মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাসিমা জীবিকার তাগিদে পুনরায় ঢাকায় যান, যা তার জন্য শেষপর্যন্ত প্রাণহানিতে পরিণত হয়।

এই দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরার পরেও জীবন এবং জীবিকার সংগ্রামে নাসিমার এই আকস্মিক মৃত্যু সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026