অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের কার্যকর তদারকি ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় জানানো হয়, শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সভায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন ট্যাগ অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় এই দায়িত্ব বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) পরিচালিত ট্যাগ অফিসাররা পালন করবে। অন্য সব জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা তাদের অধিক্ষেত্রের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম ও পদ্ধতি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তাদের দায়িত্ব থাকবে পাম্পের জ্বালানি সরবরাহ পর্যবেক্ষণ, তেল মজুতের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিদিনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ দফতরে পাঠানো।
এতে সরকারের লক্ষ্য হলো জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বিতরণ, পাম্প পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষ ও শিল্পখাতের জন্য জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের ব্যাঘাত এড়ানো। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ট্যাগ অফিসার নিয়োগ কার্যক্রম দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও পরিকল্পিত তদারকি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তায় বলা হয়েছে, “প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগপূর্বক সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে নিয়মিত তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে লাঘব, স্বচ্ছতা ও প্রাত্যহিক তদারকির সুযোগ তৈরি হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে পেট্রোল পাম্প পর্যায়ে অবৈধ কার্যক্রম হ্রাস পাবে এবং ব্যবহারকারীদের জন্য জ্বালানি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, দৈনিক প্রতিবেদন ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সমন্বয়, এই উদ্যোগের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে তেল সরবরাহ ও বিপণনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ও নিয়মিত বিতরণ, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।