1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজে শিশু আইসিইউ সংকট ও মৃত্যুর ঘটনা শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্বের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে জোরদার মনোযোগের ঘোষণা রাজধানীতে স্কুল সময়ের যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে নির্দেশ বিআইডব্লিউটিসিকে জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা নুরজাহান খানম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশ-সৌদি বৈঠকে হজ ও উমরাহ সেবায় সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভুটান তথ্যপ্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক মেসি শুরুতেই খেলতে পারেন জাম্বিয়ার বিপক্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বাজেট বৃদ্ধি, বকেয়া পরিশোধসহ অবকাঠামো ও সরঞ্জাম উন্নয়নে বরাদ্দ

আইসিইউ সংকটে আড়াই মাসে ৬২ শিশুর মৃত্যু রাজশাহী মেডিকেলে

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

স্বাস্থ্য ডেস্ক

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আইসিইউ সুবিধার অভাবে গত আড়াই মাসে ৬২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ে ৫৩ শিশু আইসিইউ না পেয়ে মারা গেছে এবং আইসিইউতে ভর্তি হলেও ৯ শিশু জীবন রক্ষা করতে পারেনি। মৃত শিশুদের মধ্যে প্রধানত নিউমোনিয়া ও হাম আক্রান্ত ছিলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো আইসিইউ না থাকায় সাধারণ আইসিইউর ১২টি বেডকে শিশুদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বেড সীমিত হওয়ায় সময়মতো ভর্তি হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দেখা গেছে, একাধিক শিশু এক বেডে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে মেঝেতেও রোগী ভর্তি থাকতে দেখা গেছে। অক্সিজেন এবং অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামকে ঘিরে রোগীর স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

পবা উপজেলার মুরারিপুর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নূহ আলম তার সাড়ে ৮ মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আছেন। শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এবং প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ভুগছে। চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ ভর্তি পরামর্শ দিয়েছেন, তবে বেড খালি না থাকার কারণে আলম আইসিইউর সামনে অপেক্ষা করছেন। তার সিরিয়াল নম্বর ২৭।

রামেক হাসপাতালের শিশু আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ১২ শয্যার শিশু আইসিইউ সাধারণত খালি থাকে না। কোনো শিশু মারা গেলে বেড ফাঁকা হলে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা রোগীদের ফোন করা হয়। তিনি নিশ্চিত করেছেন, গত আড়াই মাসে আইসিইউ না পেয়ে ৫৩ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে ১১ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা ২৮ শিশু এবং ভর্তি হওয়ার পর ৯ শিশু মারা গেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিউমোনিয়ার পাশাপাশি হাম রোগের প্রকোপও বেড়েছে। বিশেষ করে টিকার আওতায় না থাকা শিশুদের ঝুঁকি বেশি। হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও টিকার ঘাটতি ও অভিভাবকদের টিকা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করার কারণে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং জটিল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। আমাদের নিয়মিত টিকা কার্যক্রম চলমান। তবে সারাদেশে শিগগিরই টিকা ক্যাম্পেইন করা হবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর উদ্যোগ নেবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের তরিকুল ইসলাম ও রাজশাহীর দুর্গাপুরের শাহীন হোসেনের মতো অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তাদের শিশু আইসিইউ না পাওয়ার কারণে মারা গেছে। একইভাবে পুঠিয়ার বানেশ্বর ও গোদাগাড়ী থেকে আসা অভিভাবকরা আইসিইউর বেড না পাওয়ায় সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও হাম রোগের প্রকোপ বেড়েছে। টিকা থেকে বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। উন্নত চিকিৎসা ও আইসিইউ সুবিধা ছাড়া তাদের বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজে করোনাকালীন সময়ে আইসিইউ স্থাপনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও যন্ত্রপাতি প্রদান হয়নি। ফলে শিশুদের জন্য কার্যকর আইসিইউ এখনও চালু হয়নি। দেশে কোনো সরকারি হাসপাতালেই সরকার অনুমোদিত শিশু আইসিইউ নেই। প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০০ শয্যার রাজশাহী শিশু হাসপাতালও তিন বছরের বেশি সময় ধরে চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। এর ফলে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের শিশুদের উন্নত চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026