সারাদেশ ডেস্ক
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, লালমনিরহাটকে আলোকিত জেলায় রূপান্তর করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি বলেন, এই জেলার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি এবং যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের চার্চ অব গড মিশন স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় তিনি বলেন, লালমনিরহাটকে একটি আলোকিত জেলায় রূপান্তর করার জন্য শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নই জেলা চেহারা বদলাতে পারে।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা জেলার বর্তমান সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তারা মাদক নির্মূল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শহরের পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ একটি স্লোগান নয়, বরং একটি সম্মিলিত স্বপ্ন, যেখানে উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং সামাজিক বন্ধন সমানভাবে গুরুত্ব পাবে।
তরুণরা সভায় বিশেষভাবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মসংস্থানমুখী লালমনিরহাট গঠনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তারা স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের দাবি জানান। মন্ত্রী তো বলেন, যুবসমাজের এই অংশগ্রহণ উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হবে।
সভায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রশাসক রাজিব আহসান, জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, তরুণ সংগঠক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের মতবিনিময় সভার মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ করে একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সভার সমাপনীতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “লালমনিরহাটকে আলোকিত জেলায় রূপান্তর করা সম্ভব হবে একত্রিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে।”
এ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, পরিবেশ ও ডিজিটাল খাতের সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলে প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগোনোর পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়েছে। সভার অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাটকে দেশের উন্নত ও উদ্ভাবনী জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।