অপরাধ ডেস্ক
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর বাজারে অবৈধভাবে পেট্রোল মজুত রাখার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। অভিযানটি শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পরিচালিত হয়।
সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমান (ওরফে এনায়েতউল্লাহ) তার হার্ডওয়্যার দোকানের পেছনে গোপন কক্ষে ৬টি ড্রামে প্রায় ৮০০ লিটার পেট্রোল মজুত করছিলেন। প্রশাসন অভিযোগে উল্লেখ করেছে, তিনি দেশের জ্বালানি তেলের সাময়িক সংকটকে সুযোগ মনে করে উচ্চমূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে এই মজুত গড়ে তুলেছিলেন।
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় অবৈধ মজুতকৃত পেট্রোল উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার পর তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেল প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নাজির আব্দুল আজিজ অভিযান ও জরিমানা কার্যক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।此次 অভিযান কেন্দুয়া উপজেলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধ এবং নিয়ন্ত্রণকল্পে প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি করার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণকে সতর্ক করেছেন যে, বাজারে পেট্রোলের চাহিদা ও সরবরাহের নিয়মিত তথ্য অনুসরণ করে রাশন এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত। প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত রাখা বা মূল্য নিয়ন্ত্রণ ভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনা জেলা ও কেন্দুয়া উপজেলার জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে মজুত রাখার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন নিয়মিত রেড চালাচ্ছে এবং গোপন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনা করছে।
অভিযান ও জরিমানা কার্যক্রমের ফলে কেন্দুয়া উপজেলায় পেট্রোল সরবরাহের স্বাভাবিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশাসন অনুরোধ করেছে, জনসাধারণ এই ধরনের অনিয়মের তথ্য সরাসরি উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের কাছে জানান।
এই অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা ও জবাবদিহিতার বার্তা প্রদান করেছে। কেন্দ্র এবং উপজেলা প্রশাসন অবৈধ জ্বালানি মজুত ও চড়া মূল্য প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে।