আইন আদালত ডেস্ক
ঢাকার মিরপুরে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে বিদেশি রিভলবার ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে অন্তত ছয় থেকে সাতজন সরাসরি জড়িত ছিল। হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ হিসেবে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে ধরা হচ্ছে।
র্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই সরাসরি কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর তারা অবৈধ পথে পার্শ্ববর্তী দেশে পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য ঢাকা ফিরে আসে।
মিরপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শাহাবুদ্দিন কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুরের রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে রাশেদ ওরফে লোপন এবং উত্তরা ১৮নং সেক্টরের দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লুকে গ্রেপ্তার করা হয়। লোপনের বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া স্বীকার করেছে। লোপনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া রিভলবারের চেম্বারে ছয়টি গুলির কথা থাকলেও তিনটি গুলি পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় জানা যায়, ঘটনাস্থলে দুই রাউন্ড ফায়ার করে কিবরিয়াকে হত্যা করা হয় এবং এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি আশপাশের মানুষ সরানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
কোম্পানি কমান্ডার জানান, কিলিং মিশনে সরাসরি তিনজন শ্যুটার ছিল। এর মধ্যে জনি নামে একজন পূর্বে গ্রেপ্তার হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও অস্ত্র সরবরাহ এবং নিরাপত্তার জন্য ‘ভাগিনা মাসুম’ এবং ‘পাতা সোহেল’ সংযুক্ত ছিল। কিলিং মিশনে নজরদারির কাজ করছিল সুজন। মোট ছয় থেকে সাতজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী হত্যার উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার। নিহত গোলাম কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন এবং ভবিষ্যতে দলের উচ্চ পদে আসার সম্ভাবনা ছিল। হত্যাকারীরা হাউজিং, ফুটপাথ চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন, যেখানে কিবরিয়া বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বরের বি ব্লকে ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারী’ দোকানে গোলাম কিবরিয়াকে মুখোশধারী তিন সন্ত্রাসী গুলি করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় পালিয়ে গেলে, চালককে কোমরে গুলি করে আহত করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও সাত-আটজনের সম্পৃক্ততা উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় জনি নামে এক শ্যুটারকে আটক করা হয়েছিল। পরদিন মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. মনির হোসেন ওরফে সোহেল ও মো. সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজনকে র্যাব গ্রেপ্তার করে।
র্যাবের অভিযানের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের মূল দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হলেও, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের খোঁজ এবং অস্ত্র ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।