বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশে বর্তমানে এক মাসের জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে। মজুদ বাড়াতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উৎস থেকে আরও তেল সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং একই দিনে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত পাঁচটি অধ্যাদেশ আইন হিসেবে উপস্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। সভা দুটি গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছানো প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বরাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয়’ শীর্ষক বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, “এর আগে সাধারণত ১৫ দিনের মজুদ থাকত। বর্তমানে আমাদের এক মাসের মজুদ রয়েছে। মানুষের মধ্যে কিছুটা ‘প্যানিক বায়িং’ দেখা যাচ্ছে। সরকার মজুদ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে যাতে প্রয়োজনীয় সময়ে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মার্কিন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলেছে।”
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, “বর্তমানে সব ধরনের তেলেরই প্রাপ্য মজুদ রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা যাচ্ছে না। মজুদ বৃদ্ধির জন্য সরকার সব বিকল্প বিবেচনা করছে যাতে জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংকটের পরিস্থিতিতে মূলত জ্বালানি ও সার সাপ্লাইয়ে প্রভাব পড়তে পারে।”
একই দিনে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে রাজস্ব আদায়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচটি অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে উপস্থাপনের জন্য নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, “এই পাঁচটি আইন মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো জাতীয় সংসদে উত্থাপনের মাধ্যমে আইন হিসেবে প্রণীত হবে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের অর্থ অধ্যাদেশ, পূর্ববর্তী অর্থ আইনের সংশোধন, বিভিন্ন পণ্যে ভ্যাট ও আবগারি শুল্ক সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া অর্থ অধ্যাদেশের দ্বিতীয় সংশোধনও আইন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জ্বালানি তেলের মজুদ বৃদ্ধি ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাবিত হতে পারে। তেলের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত হলে গণপরিবহন, শিল্পখাত ও কৃষিক্ষেত্রে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সাপ্লাই চেইনকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকার এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তেলের মজুদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।