জাতীয় ডেস্ক
দীর্ঘ দেড় যুগ পর বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে দেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে স্থল ও আকাশে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
কুচকাওয়াজে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এবারের কুচকাওয়াজের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক। তিনি ঘোড়ায় চড়ে মঞ্চের সামনে এসে উপ-অধিনায়কের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রথমে মিলিটারি পুলিশের মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্যারেডে প্রবেশ করেন। রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধান। রাষ্ট্রপতিকে সশস্ত্র সালাম জানিয়ে কুচকাওয়াজের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং অধিনায়ক রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। একে একে রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানিয়ে মঞ্চ অতিক্রম করে কন্টিনজেন্টগুলো।
সকাল থেকেই শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী হাজারো দর্শনার্থী কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট দেখার জন্য প্যারেড গ্রাউন্ডে জড়ো হন। দর্শনার্থীদের বসার জন্য প্লাস্টিকের চেয়ার ব্যবস্থাপনা করা হয়। বেশিরভাগ দর্শনার্থীর হাতে ও মাথায় জাতীয় পতাকা দেখা যায়।
এবারের কুচকাওয়াজে অংশ নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিট, যেমন প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, সাঁজোয়া কন্টিনজেন্ট, ইস্ট বেঙ্গল কন্টিনজেন্ট ও বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট কন্টিনজেন্ট। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় পতাকাবাহী কন্টিনজেন্ট উপস্থিত ছিল। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বর্ডার গার্ড, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি কন্টিনজেন্টও অংশ নেয়।
আকাশপথে প্যারাট্রুপাররা জাতীয় পতাকা নিয়ে অবতরণ করেন এবং পরবর্তীতে বিমানবাহিনীর মনোমুগ্ধকর ফ্লাইপাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজ ও ফ্লাইপাস্টের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং সামরিক সক্ষমতার সার্বিক চিত্র প্রদর্শিত হয়।
এ অনুষ্ঠান বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করেছে।