জাতীয় ডেস্ক
জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রহমানের প্রতি সারা দেশের মানুষ অত্যন্ত আশাবাদী এবং আস্থাশীল। তিনি জানান, এই নেতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৭টায় ঢাকা শহরের শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে পুস্পমাল্য অর্পণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, “সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আমরা স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছি। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের গণতন্ত্র বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। সেই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রাম ও লড়াই চালিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, ২০ হাজারের মতো নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, এবং প্রায় ১,৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছেন।
মির্জা ফখরুল দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তারেক রহমানের কার্যক্রমের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ ধর্মগুরুদের মাসিক ভাতা প্রদান, খাল খনন কার্যক্রম, প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ মওকুফ এবং পহেলা বৈশাখে ফার্মার্স কার্ড প্রদান সহ বিভিন্ন উদ্যোগ মানুষের কল্যাণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
এদিন পুস্পমাল্য অর্পণের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পাশাপাশি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসুর মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ পুস্পমাল্য অর্পণ ও মোনাজাতে অংশ নেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা এবং তার নেতৃত্বে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি দলীয় ভিত্তিকে শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং কৃষি সহায়তা কর্মসূচি জনগণের মধ্যে তার নেতৃবৃন্দের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করছে।
বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নেতাদের উদ্যোগ জনগণের কাছে দলটির নীতিনির্ধারণ এবং নেতৃত্বের কার্যকারিতা প্রমাণ করছে।
উল্লেখ্য, তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন এবং তার নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় দল বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে।