জাতীয় ডেস্ক
দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো না করার জন্য জনগণকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বুধবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকার এখন থেকে প্রতি মাসে জাতির সামনে তাদের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরবে। ডা. জাহেদ বলেন, “সরকার বর্তমানে বেশি দামে তেল কিনছে। তবে মূল্যস্ফীতি বাড়বে বলে সরকারের পক্ষ থেকে তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জনগণকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।”
তিনি আরও জানান, কাতারের জ্বালানিক্ষেত্র বিশেষ করে গ্যাস উৎপাদনকেন্দ্রে সাম্প্রতিক হামলায় প্রায় ২০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ডা. জাহেদ আরও বলেন, “বর্তমানে কোনো পাম্প মালিক অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ করছে কি না, তা সরকারের নজরদারিতে থাকবে। এই জন্য পর্যবেক্ষণ ও তদারকি বৃদ্ধি করা হবে।”
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত জ্বালানিসংক্রান্ত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখে আছে। তবে দেশে এই মুহূর্তে জ্বালানি সংকট নেই এবং জ্বালানির মূল্য বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার জন্য অনুরোধ জানাই।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের ওপর আংশিক চাপ ফেলতে পারে। সরকার তেল ও গ্যাস আমদানিতে যে চুক্তি ও পরিকল্পনা করেছে, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের সচেতন করা এবং তদারকি বৃদ্ধি করা দেশীয় জ্বালানি ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও জ্বালানি সংক্রান্ত ভুল ধারণা থেকে সুরক্ষা দিতে চাইছে। পাশাপাশি, দেশের জ্বালানি ব্যবহার এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ ও কার্যকর করার জন্য নিয়মিত তথ্য প্রদান নিশ্চিত করা হবে।