জাতীয় ডেস্ক
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য ব্যক্তিদের ফেরত আনার বিষয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন গতকাল মঙ্গলবার, পবিত্র ঈদুল ফিতর-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমার সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেসব বৈঠকে শুধু শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয় নয়, আরও যারা সেখানে পালিয়ে রয়েছেন, তাদের ফেরতের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।”
শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তি জাতীয় সংসদে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যার বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। একদিকে চুক্তিগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা হয়েছে। শুধু এই চুক্তি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের আরও অনেক চুক্তি আছে। এসব চুক্তিই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। তাই প্রতিটি চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে বাস্তবায়ন করা হবে। এসব চুক্তি নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরেও আলোচনা হবে।”
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তারদের ফেরতের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কিছু কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চলমান আছে। তারা আমাদের আপডেট দেওয়ার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। কনস্যুলার অ্যাক্সেস নিয়েও আলোচনা চলছে এবং আশা করছি শিগগির তা পাওয়া যাবে।”
কনস্যুলার অ্যাক্সেসের বিলম্বের কারণ সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, “এটি ভারত কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা করতে পারবে। আমরা চাপ প্রয়োগ করছি। হাদি হত্যার আসামি যদি ভারতে গ্রেপ্তার হয়ে থাকে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইন অনুযায়ী সাজা দেওয়া আমাদের অগ্রাধিকার।”
২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যার স্বীকৃতি সংক্রান্ত সরকারী পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গণহত্যা দিবসে সরকার ইতোমধ্যেই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র কিছুদিনের মধ্যে এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিয়ে সরকার পরবর্তী সময়ে সম্পৃক্ত হবে।”
এই ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং দেশের স্বার্থ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এ ধরণের কূটনৈতিক উদ্যোগ দেশের নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করবে।