জাতীয় ডেস্ক
শরীয়তপুরে জমি দখল ও অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু সামাজিক সম্প্রীতি, সমতা ও স্থানীয় উন্নয়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা অন্যায় ও অত্যাচারের সঙ্গে জড়িতরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং বর্তমান সময়ে আইনের শাসনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সোমবার গোসাইরহাট উপজেলার দাসের জঙ্গল বন্দর অবস্থিত সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা ঠাকুর মন্দির প্রাঙ্গণে ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ অপু বলেন, “কারও বাড়ি বা জমি জোরপূর্বক দখলের দিন শেষ হয়েছে। যারা এসব অপকর্মে জড়িত ছিল, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ধরনের অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এবং এর সঙ্গে জড়িত অনেকেই দেশের বাইরে চলে গেছেন।
হুইপ অপু বলেন, “যারা একসময় মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করত, তাদের সময় শেষ। এখন আর কেউ কারও অধিকার হরণ করতে পারবে না। এই দেশ সবার—আমার যেমন অধিকার রয়েছে, আপনাদেরও ঠিক তেমনই অধিকার রয়েছে।” তিনি সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শরীয়তপুর একটি পরিবারসদৃশ জেলা যেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী, মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছে। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, আধুনিক ও মডেল শরীয়তপুর গড়ে তোলাই সরকার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের লক্ষ্য।
সভায় হুইপ অপু আরও উল্লেখ করেন, ভোটের কালি আঙুল থেকে মুছে যাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “জনগণের উন্নয়নের কথা আলাদা করে বলতে হবে না—সরকার ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।” তিনি তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক টি আই এম মহিতুল গনি মিন্টু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কে এম সিদ্দিক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা কমিটির সভাপতি অমিত ঘটক চৌধুরী, গোসাইরহাট পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিপ্লব কুমার দাস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা বিজন বাবু এবং শামসুর রহমান কলেজের সাবেক অধ্যাপক বিশ্বনাথ দাস।
সভায় আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নের কার্যক্রম দ্রুত কার্যকর করার প্রক্রিয়া। স্থানীয়রা হুইপের বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এর মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির উন্নয়নের আশা প্রকাশ করেছেন।
এই সভা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা প্রদানের পাশাপাশি, জেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় ও সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।