জেলা প্রতিনিধি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। সোমবার (২৩ মার্চ) একদিনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ বিভিন্ন সংস্থার মোট সাতটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই কারণে কয়েক হাজার প্রবাসী ও বিদেশগামী যাত্রীকে যাত্রায় বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ১৭৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসার তিনটি (এরাইভাল), ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী দুটি (ডিপার্চার) এবং এয়ার আরাবিয়ার মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ও যাওয়ার দুটি ফ্লাইট।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানিয়েছেন, ফ্লাইট বাতিলের হিড়িকের মধ্যে সোমবার সীমিত পরিসরে কিছু কার্যক্রম সচল ছিল। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ছয়টি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে এবং পাঁচটি ফ্লাইট গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া এবং ইউএস-বাংলার ফ্লাইটের কার্যক্রম এখনো ব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারে ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ফ্লাইটের সিডিউলে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা চলতে থাকবে।”
বিমান চলাচলের এ ব্যাঘাত প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের যাতায়াতকে জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বিমানপরিবহন খাতেও প্রভাব পড়তে পারে, যার ফলে যাত্রী ও মালবাহী ফ্লাইটের সিডিউল অস্থিরতা, অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ এবং ভোগান্তির পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করে। ফ্লাইট বাতিলের কারণে ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমান সংস্থাগুলো বিকল্প রুট নির্ধারণ, জরুরি ফ্লাইট পরিচালনা এবং যাত্রীদের তথ্য সরবরাহে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানসংস্থাগুলো থেকে প্রাপ্ত নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে তারা তাদের যাত্রা পরিকল্পনা সংশোধন করতে পারছেন। তবে ফ্লাইট বাতিলের অনিশ্চয়তা যাত্রীদের মানসিক চাপ ও যাত্রা ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যাত্রাব্যবস্থার উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক আকাশপথের নিরাপত্তা ও সীমাবদ্ধতার কারণে এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান হওয়া কঠিন বলে ধারণা করা হচ্ছে।