রাজনীতি ডেস্ক
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৩ মার্চ) সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনাসভা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দোয়া মাহফিল এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন ২৫ মার্চ বিকাল ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য প্রদান করবেন বলে জানানো হয়েছে। সভায় স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং জাতীয় জীবনে এর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পরদিন ২৬ মার্চ সকালে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজনের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য প্রার্থনা করা হবে বলে কর্মসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই দিন সকালে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ডা. শফিকুর রহমান এমপির। সেখানে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দোয়া করবেন। জাতীয় দিবসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মসূচি পালন দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ও সামাজিক রীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস প্রতি বছর ২৬ মার্চ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়ে থাকে। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ে পরিণত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দিবসগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে এ ধরনের আয়োজন দলীয় কর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার চেতনা, জাতীয় ঐক্য এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রতি তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।