অপরাধ ডেস্ক
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিটিটিসি ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের যৌথ টিম শনিবার (২১ মার্চ) রাতে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থেকে আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে রোববার দুপুরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আরিফ মাইনুদ্দিন একটি ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করে দাবি করেন যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দিয়েছে। তিনি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছিলেন যে, এই পদে থাকাকালীন তিনি প্রতিমন্ত্রীর সমপর্যায়ের বেতন, ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, এই ভুয়া গেজেট প্রতারণার উদ্দেশ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে মিথ্যা ভিজিটিং কার্ড তৈরি ও ব্যবহার করতেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আরিফ মাইনুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নকল লোগো ও প্যাড ব্যবহার করে একটি ভুয়া গেজেট তৈরি ও প্রচার করেন।
ওই গেজেটে উল্লেখ করা হয় যে, জোরপূর্বক নিখোঁজ ব্যক্তিদের পুনর্বাসন হিসেবে তাকে রাষ্ট্রের বিশেষ সম্মানিত ব্যক্তি ঘোষণা করা হয়েছে এবং এককালীন প্রণোদনা, স্থায়ী কর্মসংস্থান ও স্থায়ী বাসস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর সদস্য সচিব পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
ডিবি, সিটিটিসি ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে রবিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকরিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে তৈরি মিথ্যা গেজেট, প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ভিজিটিং কার্ড এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের পর প্রয়োজনীয় অভিযোগপত্র দায়ের করা হবে এবং প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে।
এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এই ঘটনায় সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরের অনেকেই প্রভাবিত হতে পারতেন, যা অব্যাহত তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।