সারাদেশ ডেস্ক
দিনাজপুরের পার্বতীপুর জংশনে দাড়িয়ে থাকা রমনা কমিউটার ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পার্বতীপুর থেকে রমনা বাজার রেল রুটে চলাচলকারী ট্রেনটির পাওয়ারকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল ছিল স্টেশনের ২ নম্বর ডক ইয়ার্ড (মিটার গেজ)।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনের বগি নম্বর ৭৩৫৬-এর জেনারেটর রুমে মেঝেতে তেল ভাঙা অবস্থায় দেখা দেয়। এরপর এস এস এ/ই-ইলেক্ট্রিক দপ্তরের মাসুদ রানা নয়নের নেতৃত্বে সাজেদুল ইসলাম, মিরাজসহ কয়েকজন অস্থায়ী (টিএলআর) কর্মচারী ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শুরু করেন। এই সময় ওয়েল্ডিংয়ের ফুলকি মেঝেতে পড়লে মেলট্রেনের জ্বালানী তেলের সংস্পর্শে আসে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সেখানে কাজ করা কর্মীরা সটকে পড়ে।
পরিস্থিতি জানার পর পার্বতীপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ওয়েল্ডিংয়ের কাজে সহায়তা করা অস্থায়ী কর্মী মিরাজ জানান, ট্রেন পাসিং দপ্তরের কর্মী হলেও তাদের ওয়েল্ডিংয়ের কাজে নিযুক্ত করা হয়। তিনি বলেন, “মেঝেতে থাকা জেনারেটরের তেলে আগুন ধরার ফলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মূলত অদক্ষতার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।”
পার্থক্যসূচকভাবে, ওয়েল্ডিংয়ের নেতৃত্বদানকারী ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাসুদ রানা নয়ন ও পার্বতীপুর জংশন স্টেশনের মাষ্টার রেজাউল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পার্বতীপুরের ইন্সপেক্টর আহসান হাবীব জানান, ‘ইয়ার্ডের দায়িত্বপালনকারী আরএনবি সদস্যদের মাধ্যমে প্রথমে খবর পাওয়া যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, রেল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’
পার্বতীপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের লিডার মো. দুলাল বলেন, ‘প্রথমে শুধু পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও পরে পাউডার ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’
এ ঘটনায় বাংলাদেশের রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ তসলিম আহমেদ খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রেলওয়ের নিরাপত্তা প্রটোকল এবং ওয়েল্ডিং কাজের সময় সতর্কতা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। পার্বতীপুর জংশনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জেনারেটর রুমের নিয়মিত তদারকি শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে দেখা দিয়েছে।