আইন আদালত ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুর্নীতির অভিযোগে এক প্রসিকিউটরকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
রোববার (১৫ মার্চ) রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি আইন ও বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের বিচারিক কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বরদাশত করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের ভিত্তিতে তার চাকরি বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো দপ্তরেও যদি অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় আইন সংস্থাগুলোর ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ এলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দুর্নীতিমুক্ত ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সহায়তামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষা জোরদারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তা যদি এসব কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী উপস্থিত আইন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইন ও বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
ইফতার মাহফিলে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি আব্দুল জব্বার ভুঁইয়াসহ অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আইন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশ নেন।