অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সোনার দাম বৃদ্ধি করেছে। বুধবার (১১ মার্চ) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, ভরিতে ২ হাজার টাকার বেশি বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের বরাত দিয়ে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম পড়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা।
সোনার সঙ্গে রূপার দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে, ২১ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর ও দেশীয় বাজারের চাহিদার পরিবর্তনই মূলত এই ধরনের দাম পরিবর্তনের পেছনে প্রভাবিত করছে। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে সোনার দর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশেও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়মিত দাম সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে থাকে।
বাজুসের নিয়মিত এই দাম নির্ধারণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ী এবং ভোক্তারা বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্রয়-বিক্রয় পরিকল্পনা করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টানা দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সোনার বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে মূল্য সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে এবং বিনিয়োগের ধারা কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে।
দেশের বাজারে সোনার চাহিদা সাধারণত বিবাহ, ধর্মীয় উৎসব এবং বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বৃদ্ধি পায়। সোনার দাম বৃদ্ধি হলে স্বর্ণ ক্রয় সাধারণ ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য খরচের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে। রূপার দাম বৃদ্ধিও সাধারণত স্থানীয় খুচরা বাজার এবং শিল্পে খরচ বাড়াতে পারে, যেখানে রূপা ব্যবহৃত হয়।
এই দাম পরিবর্তনের ফলে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য মুনাফা এবং লোকসানের হিসাব নতুনভাবে নির্ধারণ করতে হয়। এছাড়া, খুচরা বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণে গ্রাহকদের ক্রয়শক্তি এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও প্রভাবিত হতে পারে।
বাংলাদেশে স্বর্ণ ও রূপার বাজারকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাজুসের এই নিয়মিত মূল্য নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম যদি আরও ওঠানামা করে, তবে বাজুস সম্ভাব্যভাবে আবার দাম সমন্বয় করবে, যাতে স্থানীয় বাজারে মূল্য স্থিতিশীল থাকে।