অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের জ্যামিতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে বাংলাদেশের তেল ও এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ইরান আশ্বস্ত করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের জাহাজ কোনো বাধার মুখোমুখি হবে না। এই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে, যেখানে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল ও তথ্য বিনিময় বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে ইরান জানিয়েছে, প্রণালিতে প্রবেশের আগে বাংলাদেশের জাহাজের তথ্য জানালে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা চেয়ে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি তিন লাখ টন ডিজেল আমদানি করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং চলতি সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজ ১,২০,২০৫ টন ডিজেল নিয়ে আসার কথা রয়েছে। এপ্রিল মাসের চাহিদা পূরণের জন্য সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে তিন লাখ টন ডিজেল সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে।
বিদ্যমান চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে। তবে চাহিদার ভিত্তিতে ৬০ হাজার টন অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, চীন ও ভারতের সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন, যেখানে সরকার দৈনিক প্রায় ৯ হাজার টন সরবরাহ করছে। আসন্ন পাঁচটি চালান পৌঁছালে প্রায় ১৬ দিনের জাতীয় চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সরবরাহের স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেশের সব জেলা প্রশাসককে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন করে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটার জন্য সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হচ্ছে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব সম্ভাব্য উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ও বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে ডিজেল ও জ্বালানি তেল সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলমান সরবরাহ পরিকল্পনার ফলে দেশের জ্বালানি বাজারে তেল ও ডিজেলের অভাব কমানো সম্ভব হবে এবং স্বল্পমেয়াদে দাম ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হওয়া এবং বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয় ব্যবস্থার ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা দৃঢ় হবে।