বরিশাল — জেলা প্রতিনিধি
পিরোজপুরে নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের লিফট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালটির চারটি ফ্লোরে প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দুই মাসের মধ্যে হাসপাতালটির চার তলায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে তথ্য জানান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জু। তিনি বলেন, হাসপাতাল ভবনের লিফট স্থাপনের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং লিফট সরবরাহে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বিলম্বিত না করে হাসপাতালের চারটি ফ্লোর সীমিত আকারে চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় লিফটের যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে। সেগুলো আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে সরবরাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে লিফট স্থাপন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের কার্যক্রম স্থগিত না রেখে ধাপে ধাপে সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ আগামী মে মাসের মধ্যে হাসপাতালটির প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর জেলা হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে জেলার প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং রোগীর চাপ বৃদ্ধির কারণে বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবন চালু হলে জেলার চিকিৎসাসেবার পরিসর বাড়বে এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বর্তমানে জেলার অনেক রোগীকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালসহ অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে যেতে হয়। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। নতুন হাসপাতালটি পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে স্থানীয় পর্যায়েই অধিকাংশ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। পিরোজপুর জেলা হাসপাতালেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ বা পদায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের কিছু চিকিৎসা যন্ত্রপাতিতে কারিগরি সমস্যা রয়েছে। সেগুলো দ্রুত মেরামত করা বা প্রয়োজন হলে অন্য হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কাজও চলমান রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা পর্যায়ে আধুনিক হাসপাতাল চালু হলে স্থানীয় জনগণের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা স্থানীয় পর্যায়েই প্রদান করা সম্ভব হয়।
এর আগে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের অবস্থা এবং দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় হাসপাতালটি দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আউয়ালসহ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। তারা হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম দ্রুত চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।