অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর এমন ইঙ্গিতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। মঙ্গলবার সকালে এশীয় বাজারে লেনদেন শুরুর পর অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর সূচকে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত Brent Crude Oil-এর দাম প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আরেকটি প্রধান মানদণ্ড West Texas Intermediate অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়ায়।
তবে সাম্প্রতিক এই পতনের পরও তেলের বর্তমান মূল্য সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, চলমান উত্তেজনা শুরুর পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি অবস্থানে রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেলের দামের এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে বিবেচনা করা হচ্ছে। সোমবার দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন যে চলমান সংঘাত ‘খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যেতে পারে’। এমন মন্তব্যের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয় এবং জ্বালানি বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক তেলবাজারে প্রতিফলিত হয়।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ওঠানামা সাধারণত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়ায় ওই অঞ্চলে সংঘাত বা অস্থিরতা দেখা দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। বিপরীতে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে বাজারে মূল্যহ্রাসের প্রবণতা দেখা যায়।
তেলের দামের সাম্প্রতিক পতনের ইতিবাচক প্রভাব এশিয়ার শেয়ারবাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে। জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক Nikkei 225 মঙ্গলবারের লেনদেনে প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচক KOSPI ৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার বহু অর্থনীতি জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যান্য শিল্পোন্নত অর্থনীতিগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেলে এসব দেশের উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং শিল্পখাতে চাপ বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব সরাসরি শেয়ারবাজারে প্রতিফলিত হতে পারে।
অন্যদিকে, তেলের দাম কমে গেলে জ্বালানি ব্যয় হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রত্যাশাই বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলে এবং শেয়ারবাজারে ক্রয়চাপ বাড়ায়।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রধান শক্তিগুলোর কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর আগামী দিনগুলোতে তেলের বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশে নির্ভর করবে। সংঘাতের পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের দিকে এগোলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে আরও স্থিতিশীলতা দেখা যেতে পারে। তবে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে মূল্য ওঠানামা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।