শিক্ষা ডেস্ক
দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আজ সোমবার (৯ মার্চ) থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত জরুরি। এজন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক ক্যালেন্ডারে উল্লিখিত ঈদুল ফিতরের ছুটি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে।
নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় যথেষ্ট প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে। এছাড়া জানালা ও দরজা খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিদ্যমান আলোর অর্ধেক পরিমাণে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে বলা হয়েছে। অফিস সময় শেষে সব লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার এবং এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ করার দায়িত্ব প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার এবং গাড়ি ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা রক্ষার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা এই সময়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম যেমন ক্লাস, পরীক্ষা ও লাইব্রেরি ব্যবহার প্রভাবিত হতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় আশা করেছে, বন্ধ ঘোষণা সত্ত্বেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পরিকল্পিত একাডেমিক কার্যক্রমের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবে।
এছাড়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনকে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত নির্দেশনা ও পরামর্শ শেয়ার করতে বলা হয়েছে। এই উদ্যোগ দেশের শক্তি সাশ্রয় এবং বৈদ্যুতিক খাতের চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই বন্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পকালীন বিশ্রামের সুযোগ তৈরি করলেও একাডেমিক সেশনের সময়সূচি বজায় রাখা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হিসেবে থাকছে।