জাতীয় ডেস্ক
ঢাকার কারওয়ান বাজারে শনিবার প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ করে উগ্রবাদী শক্তি যে বার্তা দিয়েছে, তা মোকাবেলায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সমাজের উন্নয়নকে কেউ থামাতে পারবে না এবং প্রগতির পথে বাধা দেওয়া যায় না।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি বলেন, “আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও উল্লেখ করা হয়েছে যে আমরা স্বাধীন গণমাধ্যম চাই এবং এর পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করবো। বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতাতেও আমরা বিশ্বাসী।” তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনাও জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী শক্তি প্রগতির দড়ি টেনে ধরার চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করেছে, তারা তা কখনোই করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, “প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং তদন্তের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা তদন্তের অগ্রগতি জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি। আগামী দুই মাসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এরপর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান হবে।”
এদিন মন্ত্রী ঢাকার কারওয়ান বাজারে দ্য ডেইলি স্টারের অগ্নিসংযোগপ্রাপ্ত অফিসও পরিদর্শন করেন। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একই সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। যে কোনো গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণকে আমরা সভ্যতার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করি। এই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে সভ্যতা বিরোধী চিন্তা কাজ করেছে। রাষ্ট্র ও সরকার সর্বদা সচেতন থাকবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। তিনি বলেন, “যে কোনো অপরাধ, তা তাৎক্ষণিক হোক বা সময়ের ব্যবধানে হোক— সবকিছুকে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধই তামাদি হতে পারবে না।”
পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন।