আইন আদালত ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটরদের মধ্যে যে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিচার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে না। তিনি জানান, তার দায়িত্বকালে বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হবেন না।
চিফ প্রসিকিউটর বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “প্রসিকিউটরদের মধ্যে যে অভিযোগ এসেছে, তা বিচার প্রক্রিয়াকে কখনো প্রভাবিত করবে না। আমার মাধ্যমে কোনো নির্দোষ মানুষ বিন্দুমাত্র হয়রানির শিকার হবে না, আবার কোনো অপরাধীও পার পেয়ে যাবে- এমন ভাবা যাবে না। এটি একেবারেই স্পষ্ট বার্তা।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিচার কার্যক্রম থেমে যাবে না এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ট্রাইবুনালের অভ্যন্তরীণ বিষয়। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। পরিবারের ভেতরে নানা বিষয় ঘটতে পারে, তবে সেগুলোর সমাধানও হয়। বিচার প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাইবুনালের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ প্রকাশের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা যায়। চিফ প্রসিকিউটরের এই মন্তব্য আইন ও বিচার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার অঙ্গীকারকে প্রমাণ করছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল দীর্ঘদিন ধরে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা মামলার বিচার পরিচালনা করে আসছে। ট্রাইবুনালকে সমর্থনকারীরা অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ সত্ত্বেও বিচার প্রক্রিয়ার স্থায়িত্ব ও নিরপেক্ষতার প্রতি আশাবাদী। তবে নিন্দাকারীরা সময় সময় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরির কারণে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি প্রশ্ন তোলেন।
প্রসিকিউটরদের মধ্যে মতবিরোধ বা অভিযোগ সাধারণত মামলা পরিচালনার সরাসরি প্রভাব ফেলে না, তবে আদালতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য তা সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো সাধারণত অভ্যন্তরীণ কমিটি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করা হয়, যাতে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বজায় থাকে।
চিফ প্রসিকিউটরের এই মন্তব্যে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ট্রাইবুনালের প্রতিটি মামলা ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্থায়িত্বে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। একই সঙ্গে এটি ট্রাইবুনালের কর্মী ও প্রসিকিউটরদের জন্যও নির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে, যাতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বিচার কার্যক্রমে ব্যাঘাত না ঘটে।