আইন আদালত ডেস্ক
ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদকের মামলায় পলাতক আসামি শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর এই আসামির গ্রেপ্তারে নোটিশ জারির আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে ইষ্টার্ণ হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করেন। তিনি অবৈধভাবে ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি দলিল দখল করে নেন। মামলার তদন্তে জানা যায়, আসামি ফ্ল্যাটের হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনগুলো পেতে রাজউকের আইন কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজের খালার প্রধানমন্ত্রী হওয়া এবং নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নি হিসেবে পরিচয় ব্যবহার করে এই সুবিধা গ্রহণ করেন।
ফ্ল্যাট নং বি/২০১, বাড়ি নং ৫এ ও ৫বি (পুরাতন), বর্তমানে ১১এ, ১১বি (নতুন), রোড নং ৭১, গুলশানে অবস্থিত এই সম্পত্তি বিনা মূল্যে গ্রহণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত এবং দুদকা উভয়েই উল্লেখ করেছেন যে, আসামি ইতোমধ্যে দেশত্যাগ করেছেন এবং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তাই তার গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা প্রয়োজন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেড নোটিশ জারি করা একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যা পলাতক আসামিকে বিদেশ থেকে গ্রেপ্তার বা দেশে প্রত্যাহারের সুযোগ প্রদান করে। এটি মূলত পলাতক ব্যক্তির আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করে।
দুদকা ইতোমধ্যে বিষয়টি তদারকির জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আগামী সময়ে রেড নোটিশ কার্যকর হলে, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে বিদেশের যে কোনো দেশে ধরিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, টিউলিপের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি নগদ অর্থ ও সম্পত্তি সম্পর্কিত দুর্নীতির একটি গুরুতর মামলা। মামলাটি পরিচালনার সময় বিভিন্ন নথি, দলিল ও সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। মামলাটি সমাপ্ত হওয়ার পূর্বেই আসামির দেশত্যাগ এবং প্রমাণাদি নষ্ট করার প্রচেষ্টা বিষয়টিকে জটিল করেছে।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলছে, রেড নোটিশ জারির মাধ্যমে আসামি দ্রুত শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে, যা দেশের বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, মামলার তদন্ত ও রেড নোটিশ কার্যকর হলে, এর প্রভাব ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মোকাবেলায় সুপ্রতিষ্ঠিত বিচার ব্যবস্থা স্থাপনেও সহায়ক হতে পারে।