জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নগরের অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রকালুরঘাট শিল্পাঞ্চলকে আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করার জন্য সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে। শিল্পাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে সড়ক, সেতু ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) চসিকের ৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ডস্থ বালি খালের ওপর ২০ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসব তথ্য জানান। মেয়র বলেন, “বালি খালের ওপর এই ব্রিজটি নির্মিত হলে শিল্প এলাকার সড়ক সম্প্রসারণ হবে এবং যান চলাচলের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রকল্পটির ফলে খালের পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহন আগের তুলনায় সহজ হবে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতে সমস্যার মুখোমুখি স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হবে।
চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বালি খাল ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প শুধু শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের একটি অংশ। পুরো শিল্পাঞ্চলকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমও সমান্তরালভাবে চলমান রয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রামের অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রকে বিনিয়োগবান্ধব এবং কর্মক্ষম করে তোলার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর আজম খান, প্রকৌশলী রিফাতুল করিম ও প্রকৌশলী শাফকাত আমিন উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রকল্পের কার্যক্রম ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন।
চট্টগ্রাম শহরের কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলটি স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। এই শিল্পাঞ্চলে শতাধিক ক্ষুদ্র ও বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত, যা নগরের বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সড়ক ও সেতু সম্প্রসারণের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন শিল্পাঞ্চলের পরিবেশগত স্থিতিশীলতাকে নিশ্চিত করবে এবং বর্ষা মৌসুমে পানির জট বা জলাবদ্ধতা কমাবে।
চসিকের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এলাকার অবকাঠামোগত দুরবস্থা কমে, শিল্প কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের আধুনিকায়ন প্রকল্প চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়াতে সহায়ক হবে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।