বিনোদন ডেস্ক
শিল্পকলা (সঙ্গীত) ক্ষেত্রে এই বছরের মরণোত্তর একুশে পদক প্রাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে আইয়ুব বাচ্চুর নামে। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে পদক গ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা।
আইয়ুব বাচ্চু গিটারিস্ট, কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার এবং ব্যান্ড এলআরবি (LRB)-র প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। তিনি দক্ষিণ এশীয় সঙ্গীত অঙ্গনে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করেছেন এবং বাংলাদেশের রক সঙ্গীতের একজন প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। তার সঙ্গীতে ব্লুজ, হার্ড রক ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
১৯৮০-এর দশক থেকে তিনি ১৩০-এরও বেশি শিল্পীর সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। গায়ক ও সুরকার হিসেবে তার কাজ কেবল দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ছাপ ফেলে। তিনি বিশ্বব্যাপী আড়াই হাজারেরও বেশি কনসার্টে অংশগ্রহণ করেছেন, যা তার বহুমাত্রিক সঙ্গীত প্রতিভার প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়।
আইয়ুব বাচ্চু বাংলাদেশের সঙ্গীতভুবনে রকের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তিনি স্থানীয় আবেগ ও বৈশ্বিক সুরের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি স্বতন্ত্র ধারার বিকাশ ঘটিয়েছেন, যা বাংলাদেশের আধুনিক সঙ্গীত ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়। তার সৃষ্টি ও নেতৃত্বে এলআরবি ব্যান্ডটি রক সঙ্গীতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
একুশে পদকের মাধ্যমে তার অবদানের স্বীকৃতি প্রদান দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তার স্থায়ী ছাপ নিশ্চিত করেছে। আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গীতধারা এবং সৃজনশীলতা ভবিষ্যত প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে।