আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে করা অভিযোগগুলো খণ্ডন করেছেন। তেহরান তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আসন্ন পারমাণবিক আলোচনাকে বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছেন এবং হিটলার যুগের প্রচারণা কৌশল অবলম্বন করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে দাবি করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত একটি হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান ৩০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে শীর্ষ রাষ্ট্র-সমর্থক হিসেবে রয়ে গেছে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা এই দাবিকে ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিমূলক বলে অভিহিত করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পুনরাবৃত্ত অভিযোগগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে একটি মিথ্যা বর্ণনা গঠনের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, “পেশাদার মিথ্যাবাদীরা সত্যের ভ্রম সৃষ্টি করতে ওস্তাদ। এটি জার্মান নাৎসি প্রচারনীতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, যেখানে একটি মিথ্যা বারবার বললে তা সত্যে পরিণত হয়।” বাঘায়ি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন এবং তাদের মিত্ররা এ ধরনের কৌশল ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করেছেন।
ইরানি পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে প্রায় ৩ হাজার ১০০ জন নিহত হয়েছে। ইরানি ফরেনসিক মেডিসিন অর্গানাইজেশন, কবরস্থান ও স্থানীয় হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সমন্বিত তদন্তের পর এই পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ওই বিক্ষোভ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক সংকটজনিত দুর্ভোগের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি অবনতি ঘটে, যখন সিআইএ ও মোসাদের অনুপ্রবেশকারীরা অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে সহিংসতা চালায়। এ সংঘর্ষে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বেসামরিক নাগরিক এবং প্রায় ৬০০ দাঙ্গাকারী নিহত হন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিতে আগে থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, “২ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যা সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করেছে।”
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনা আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাস্তব তথ্য এবং প্রমাণভিত্তিক আলোচনা হবে, যাতে পারমাণবিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিরোধ সমাধানযোগ্য হয়।
এ ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতার প্রতি উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এবং তথ্যবহুল বিভ্রান্তি ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনার ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।