জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ শুরু হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিন রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেন। এই ভাষণের জন্য প্রয়োজনীয় খসড়া তৈরি ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ভাষণের খসড়া প্রস্তুত করে এবং পরে তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ সংসদে তার ভাষণ উপস্থাপন করবেন।
সংবিধানের ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব তোলা হয়। সংসদ সদস্যরা ওই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য প্রদান করেন এবং অধিবেশনের শেষ দিন প্রস্তাবটি সংসদে গ্রহণ করা হয়। তবে রাষ্ট্রপতি নিজে বা তার দপ্তর এই ভাষণ প্রস্তুত করেন না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের শাখার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া বাধ্যতামূলক। খসড়া তৈরির কাজ প্রায় তিন মাস আগে, সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই শুরু হয়েছিল।
প্রস্তুত হওয়া খসড়ার আয়তন প্রায় দেড়শ পৃষ্ঠা হতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতি পুরো খসড়া পড়বেন না; তিনি ভাষণের প্রধান অংশই সংসদে পড়বেন, বাকিটা স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে পঠিত হিসেবে গণ্য হবে। ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশে নতুন সরকারের নীতি, নির্বাচনী ইশতেহার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট সংযোজন করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির ভাষণে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ওই সময়ে ক্ষমতাসীন সরকারের পদত্যাগ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ সম্পর্কিত তথ্য। এছাড়া বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়গুলোও উল্লেখ থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাষণের খসড়া প্রস্তুতির সময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ১৪৩ পৃষ্ঠার ছিল। এবারের ত্রয়োদশ সংসদে ভাষণ দেড়শ পৃষ্ঠার মতো হতে পারে।
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১২ মার্চ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এটুকুই জানায়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার ভাষণে সরকারি নীতি ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছিল।