বাংলাদেশ ডেস্ক
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, আসন্ন হজ মৌসুমে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দরে সেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান তিনি। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় মানিকগঞ্জ সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, সামনে হজ মৌসুমকে ঘিরে বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে হজযাত্রীরা টিকিটিং, বোর্ডিং, ইমিগ্রেশন ও লাগেজ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। প্রতিবছর হজ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে ব্যবস্থাপনায় জটিলতা দেখা দেয়। এ প্রেক্ষাপটে আগাম প্রস্তুতি ও তদারকি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে দেশে আগত যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দরে স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে তারা যেন ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হবে। প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের যাতায়াত ও সেবা ব্যবস্থায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।
বিমান টিকিট বিক্রিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকা ‘টিকিটিং সিন্ডিকেট’ প্রসঙ্গে আফরোজা খানম রিতা বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। টিকিটের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও অনিয়মের অভিযোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। অতীতে বিভিন্ন সময়ে ভ্রমণ মৌসুমে টিকিটের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি ও নীতিগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অমীমাংসিত কাজগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি নীতিমালা ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানিকগঞ্জ জেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জেলার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ও তেওতা জমিদার বাড়িকে কেন্দ্র করে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব স্থাপনার সংরক্ষণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ–সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা নদীকে ঘিরে নদীশাসন ও নদীকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে পর্যটন উন্নয়ন করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে আয় বৃদ্ধি পেতে পারে।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।