আইন আদালত ডেস্ক
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত তারিখ পুনরায় পিছিয়ে গেছে। তাঁর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় আগামী ৯ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ রোববার মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এ কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন হিসেবে ৯ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলাটি সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের ২৯ বছর পর ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে তার মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় দায়ের করেন। আদালত এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তা পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়।
মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) ছিলেন দেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে নয়টায় তাঁর মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাঁকে দেখতে যান। ওই দিন নীলা চৌধুরী ও শাহরানের সিলেটে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিনরোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের বাসায় পৌঁছালে স্ত্রী সামিরা ও কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। সেই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তাঁর বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলেন যে তাঁরা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তাঁরা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। দ্রুত বাসায় গিয়ে তাঁরা ছেলেকে শোবার ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সে সময় দু-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গলার দড়ির দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ নীলচে দেখা যায়। প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, তিনি আগেই মারা গেছেন।