1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধ রুখতে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল, ভিএআর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দালিচ ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে নকআউটে পর্তুগাল, রোনালদোর ম্যাচসেরা হওয়া নিয়ে বিতর্ক বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিল আলজেরিয়া ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, বিমান অগ্নিদগ্ধ লস অ্যাঞ্জেলেসে নাইট রাইডার্স গ্রুপের বিশ্বমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম উদ্বোধন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের প্রস্তুতি সম্পন্ন: যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

নির্বাচনের আগে বিভক্তি রোধে গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যের ওপর জোর বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদের

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮১ বার দেখা হয়েছে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভক্তি দৃশ্যমান হওয়ায় গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর মতে, এই বিভক্তির সুযোগ নিয়ে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শক্তি পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে, যা দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক। এমন প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য গড়ে তোলাকে তিনি সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম বিজয় দিবস দেশবাসী একটি মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশে উদ্‌যাপন করেছিল। সে সময় বিজয়ের আনন্দ ও উল্লাস ছিল ভিন্নমাত্রার, কারণ মানুষ দীর্ঘদিন পর নির্বিঘ্নে স্বাধীনতার অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পেয়েছিল। তবে এক বছর পার হতে না হতেই নানা রাজনৈতিক পরিক্রমা ও নির্বাচনকে সামনে রেখে বিতর্কের কারণে সমাজে কিছুটা বিভাজন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর একটি সহিংস ঘটনার ফলে দেশজুড়ে বেদনাবিধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, গণতান্ত্রিক উত্তরণের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের সহযোগীরা নানা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক বিরোধকে কাজে লাগিয়ে তারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুসংহত করতে দেশের পক্ষের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, এই ঐক্যের মাধ্যমেই সন্ত্রাসবাদী ও গণতন্ত্রবিরোধী তৎপরতা প্রতিহত করা সম্ভব। তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক বিভক্তি যত গভীর হয়েছে, ততই অগণতান্ত্রিক শক্তি সুযোগ নিয়েছে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে মতপার্থক্য সত্ত্বেও ন্যূনতম জাতীয় স্বার্থে একত্রিত হওয়া অপরিহার্য।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো একটি দলের একক সম্পত্তি ছিল না; এটি ছিল দেশের সব মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। ইতিহাসে যারা মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়করণের চেষ্টা করেছে, তারা টেকসই হতে পারেনি। তাঁর ভাষায়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানও একইভাবে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এই অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাকে প্রতিফলিত করে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থা থেকে মুক্তি, সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং হারানো মানবাধিকার ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে। এসব প্রত্যাশার সমষ্টিগত রূপই ছিল চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

বর্তমান রাজনৈতিক করণীয় সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন প্রধান দায়িত্ব হলো ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে একটি কার্যকর জাতীয় শক্তিতে রূপ দেওয়া। এই ঐক্যকে ভিত্তি করেই আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। তাঁর মতে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর একটি সাংবিধানিক মাধ্যম। তাই নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো ধরনের সহিংসতা, বিভাজন বা অগণতান্ত্রিক তৎপরতা রোধ করা জরুরি। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি শক্তিশালী ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া সম্ভব। তিনি মনে করেন, জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল ও জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026