ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, এই তিনটি গুণই জাতির উন্নয়ন অভিযাত্রায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত দপ্তর প্রধানদের সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অধীনস্থ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিনিয়র সচিব বলেন, “ভূমি ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সেবা সহজতর করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনই আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি সংরক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মধ্য দিয়েই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
সভায় জানানো হয়, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবহন সমস্যা নিরসনে মোটরসাইকেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ভবনে একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন সিনিয়র সচিব। তিনি বলেন, “একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তুলতে জ্ঞানের পরিধি বাড়ানো জরুরি। সে লক্ষ্যেই লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।”
দেশপ্রেমের বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সচিব বলেন, “প্রকৃত দেশপ্রেম মানে হলো ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দেশের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া। প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং নৈতিকতা—এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান একেএম সালাহউদ্দিন নাগরী, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদ হাসান এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান।
সভায় বক্তারা ভূমি খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম, ভূমি ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া, সেবাপ্রদান পদ্ধতি সহজীকরণ এবং মাঠ পর্যায়ের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে অনলাইন ভূমি সেবা, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং একাধিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়নাধীন। মাঠ পর্যায়ে এই কার্যক্রমের সুফল পৌঁছাতে হলে কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে বলেও সভায় মত প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ভূমি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে ভূমি একটি স্পর্শকাতর খাত হিসেবে পরিচিত, যেখানে জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকার ইতোমধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সততা ও দেশপ্রেমের গুরুত্ব আরোপ প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নৈতিক ভিত্তিকে জোরদার করার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সভায় উত্থাপিত বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন হলে ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতা হ্রাস, সেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি ও লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে পারে।
এছাড়া, নীতিনিষ্ঠতা ও দেশপ্রেমের ওপর জোর দেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সেবার মনোভাব বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।