আইন আদালত ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলার মূল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বুধবার দিন ধার্য ছিল, তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন দিন ধার্য করেছেন।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার জালিয়াতির মাধ্যমে চুরি করা হয়। ওই সময় হ্যাকাররা সুইফট কোড ব্যবহার করে অর্থ পাচারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। চুরি করা অর্থ পরবর্তীতে ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় এই হ্যাকার গ্রুপ অর্থ পাচার করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ধারা ৪, তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ধারা ৫৪ এবং ৩৭৯ ধারায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদারকি করছে।
তদন্ত সংস্থা সিআইডি চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের শনাক্তকরণ এবং অর্থের গন্তব্যস্থল নির্ধারণে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করছে। তদন্তের ফলে চুরি হওয়া অর্থের পুনরুদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এই মামলার গুরুত্ব দেশের আর্থিক নিরাপত্তা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
মামলার ধারাবাহিকতায় আদালত নিয়মিত সিআইডি’র প্রতিবেদন, তদারকি প্রতিবেদনের এবং অন্যান্য প্রমাণাদি যাচাই করছে। আগামী ৯ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত পরবর্তী শুনানি এবং সম্ভাব্য চার্জশিটের দিক নির্দেশনা প্রদান করবেন।
এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার প্রক্রিয়ায়ও ভূমিকা রাখবে।