1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রমজান শুরুর আগে রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন ওয়েবসাইটে চাঁদাবাজি ও অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ শুরু ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে দ্বিতীয় দিন অফিস করছেন নারী সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যেই আয়োজনের পরিকল্পনা ইসির রমজানে ১০ লাখ পরিবারের জন্য সুলভ মূল্যে প্রোটিন সরবরাহ শুরু নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক: বিসিবিতে সতর্কতার ‘রেড অ্যালার্ম’ বাজল দেশে মৃদু ভূমিকম্প, সুনামগঞ্জে অনুভূত দুবাইয়ে ১ হাজার ৮৫৬ বন্দিকে রমজান উপলক্ষে ক্ষমা ঘোষণা বিএনপি সরকারের শপথ গ্রহণ: দেশজুড়ে উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা প্রত্যাশা

রমজান শুরুর আগে রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

রাজধানী ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাস শুরুর প্রাক্কালে রাজধানী ঢাকার খুচরা বাজারে লেবুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। বাজার পরিদর্শন ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের প্রভাবে গত দুই সপ্তাহে বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। বর্তমানে ভালো মানের এক হালি লেবু ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে এক ডজন (১২টি) ফার্মের ডিমের দাম ১০৫ থেকে ১১০ টাকা।

বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানকে কেন্দ্র করে ইফতার সামগ্রীর চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। এর ফলে বাজারে মূল্যচাপ তৈরি হয়েছে।

লেবুর দাম গত দুই সপ্তাহে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বড় ও উন্নত মানের লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, অর্থাৎ প্রতিটি লেবুর দাম পড়ছে প্রায় ৩০ টাকা। গত বছর রমজান শুরুর আগে এক হালি লেবুর দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বিক্রেতাদের মতে, মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে লেবুর সরবরাহ কমেছে এবং রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইফতারের জন্য প্রয়োজনীয় সবজির দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বেগুন ও শসার দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ধরনভেদে বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ও গাজরের দামও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি রয়েছে।

নিত্যপণ্য পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। পেঁয়াজ বর্তমানে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি। কাঁচা মরিচ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রাণিজ আমিষের বাজারেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় পৌঁছেছে। বিক্রেতারা জানান, মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি, শীতকালে খামারে মৃত্যুহার বৃদ্ধি এবং রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়া—এই তিনটি কারণ দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে ডিমের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

মাছের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, কই, শিং, রুই ও কাতলা মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে ছিল। মাঝারি আকারের রুই বা কাতলা মাছ ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

ফলের বাজারেও রমজান উপলক্ষে দাম বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। মাল্টা ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং আপেল ৩৩০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেশি। দেশীয় ফলের মধ্যে কলার দাম ডজনে ৩০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। পেঁপে, পেয়ারা ও বরইয়ের দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, রমজানে ব্যবহৃত ছোলা, মসুর ডাল ও চিনির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রমজান শুরুর আগে চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতি বছরই কিছু পণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা যায়। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এবং বাজার তদারকি জোরদার হলে মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026