বাংলাদেশ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) রোজার মধ্যেই প্রস্তুতি নিতে চলেছে। সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে জানান, ‘ঈদের আগেই আমরা নারীদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো। সংবিধান অনুযায়ী এটি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে করতে হয়। সেক্ষেত্রে সম্ভব হলে রোজার মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ঈদের পর উপ-নির্বাচন শেষ হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন আরপিও অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। যে দল সাধারণ আসনে কতটি আসন অর্জন করে, সেই অনুপাতে তার জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। একাধিক আসন অর্জন করলে একটি দল নারী আসনের জন্য যোগ্য হয়, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এককভাবে নারী আসনের জন্য নির্বাচিত হতে পারেন না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২৯৯টি আসনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুটি আসন স্থগিত রাখার পর ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করে ইসি এবং গেজেট প্রকাশিত হয়। ফলাফলের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসন পায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসন অর্জন করে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন এবং খেলাফত মজলিস প্রতিটি একটি করে আসন পায়। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৪১টি দল কোনো আসনে জয়ী হতে পারেনি।
이번 নির্বাচনে মোট ৮৩ জন নারী প্রার্থী অংশ নেন, যার মধ্যে বিভিন্ন দলের ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন। নির্বাচনে জয়ী হন সাতজন নারী। এদের মধ্যে ছয়জন বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তুতি দেশের সংরক্ষিত নারী আসনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে যথাযথ প্রতিনিধি নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের ফলে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণে তাদের অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় হবে।