কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে প্রশাসন ক্যাডারের এক কর্মকর্তার চাকরির নিয়োগ বাতিল করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সোমবার (২০ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মো. শফিকুল ইসলামের নিয়োগ অবসানের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. শফিকুল ইসলাম ৪১তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এরপর ২৯ জুলাই তিনি বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা এর অধীনে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার (শিক্ষানবিশ) হিসেবে যোগদান করেন।
তবে মাত্র এক মাসের মধ্যেই, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন এবং সে সময় থেকে আর কাজে ফেরেননি। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তার সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফলতা পাওয়া যায়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শফিকুল ইসলামের শিক্ষানবিশকালীন চাকরির আচরণ ও কর্মসম্পাদন সন্তোষজনক ছিল না। ফলে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (নিয়োগ) বিধিমালা, ১৯৮১-এর বিধি ৬(২)(ক) অনুযায়ী তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
বিধিমালার এ ধারায় বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি শিক্ষানবিশকালীন সময়ে সন্তোষজনক আচরণ বা কর্মদক্ষতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হন, তবে নিয়োগ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তার নিয়োগ অবসান ঘটানো যেতে পারে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বিভিন্ন সময় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনসেবার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে। বিসিএস ক্যাডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির ঘটনায় ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের একটি নির্দিষ্ট শিক্ষানবিশকাল অতিক্রম করতে হয়, যার মধ্যে কর্মদক্ষতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং দাপ্তরিক আচরণ মূল্যায়নের আওতায় পড়ে। এই সময়কালে কর্মকর্তারা কোনো নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে, প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
সরকারি কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে যখন এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের শুরুতেই ঘটে, তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পুরো কাঠামোর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের ঘটনায় ভবিষ্যতে প্রশাসনিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও কঠোর মনোভাব অবলম্বন করা হবে। কর্মকর্তাদের নিয়মিত মূল্যায়ন এবং কর্মদক্ষতা নিরূপণের প্রক্রিয়া জোরদার করার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।